তারুণ্যেই সাফল্যের শিখরে : জেএইচএম গ্রুপের ডিএমডি মেহেদি হাসান বিপ্লব

প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২০

তারুণ্যেই সাফল্যের শিখরে : জেএইচএম গ্রুপের ডিএমডি মেহেদি হাসান বিপ্লব

 

মোঃ কামাল উদ্দিন :

কথায় বলে, “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।” তার অনন্য দৃষ্টান্ত তরুণ ব্যবসায়ী মোঃ মেহেদি হাসান বিপ্লব। জীবনের নানা বাঁকে সীমাহীন কষ্ট স্বীকার করে ব্যবসাতেই হয়েছেন ধ্যানমগ্ন। ফলশ্রুতিতে তারুণ্যেই পেয়েছেন সাফল্যের দেখা। মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই হয়ে উঠেছেন সাফল্যের জ্বলন্ত উদাহরণ। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সন্তান মেহেদি হাসান বিপ্লব এখন অন্যতম শিল্প গ্রুপ আন্তর্জাতিক কোল এনার্জি কোম্পানি জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি)। শুধুই সফল ব্যবসায়ীর গণ্ডিতে পরিচিত থাকতে চান না বিপ্লব, তার আরেক পরিচয় মানবতার ফেরিওয়ালা। ঢাকা থেকে ফটিকছড়ি, এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যখন যেখানেই অসহায় মানুষের আর্তনাদ, ছুটে চলেছেন এই তরুণ। বিলিয়ে দিয়েছেন নিজের সাধ্যের সবটুকু। আলাপকালে একজন সহজ-সরল, বিনয়ী ও মিষ্টভাষী বিপ্লবের পরিচয়ই প্রধান হয়ে উঠল। খুব সহজে অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন বন্ধুবৎসল।

জানা গেছে, প্রথমে সাধারণভাবে ছোট একটি ব্যবসার মাধ্যমে শুরু হয় বিপ্লবের জীবন। নিজের মেধা, কঠোর পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার কারণে অল্প দিনেই হয়ে ওঠেন সফল ব্যবসায়ী। কিছুদিনের মাথায় বিপ্লব ভারতীয় কোম্পানি জেএইচএম ইন্টারন্যাশনালকে (যার কিছু শাখা বিশ্বের কয়েকটি দেশে রয়েছে) বাংলাদেশে ব্যবসার প্রস্তাব দিলে তারা বাংলাদেশ বিনিয়োগ করতে রাজি হয়। সেই সূত্রে অল্প সময়ের মধ্যে জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে তাদের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা শুরু করে এবং ব্যাপক সফলতা অর্জন করে। যার ফলে মেহেদি হাসান বিপ্লবের জীবনেও বড় সফলতা আসে এবং তাকে কোম্পানিটির বাংলাদেশ শাখার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবেও নিযুক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি একে একে বিভিন্ন খাতে নিজের ব্যবসা সম্প্রসারিত করেন। সফলতাও পেয়েছেন দু’হাত ভরে। তবে তার এই সফলতা তিনি একার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, ছোট ছোট ব্যবসা গড়ার মাধ্যমে অনেককেই বানিয়েছেন উদ্যোক্তা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়মিতভাবে নিজের আয়ের একটি অংশ থেকে এলাকার গরিব অসহায় দরিদ্র মেধাবী ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা, কন্যা দায়গ্রস্ত পিতাকে আর্থিক সহায়তা, যোগ্যতা অনুসারে মেধাবী ও শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের নিজের প্রতিষ্ঠান এবং পরিচিত বন্ধু-বান্ধবদের প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মানবহিতৈষীর পরিচয় দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সর্বশেষ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অঘোষিত লকডাউনের সময় ঢাকা ও নিজ এলাকা ফটিকছড়ির কয়েক লাখ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, অনেককে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতেও সহযোগিতা করেছেন বিপ্লব। মানুষের বিপদ-আপদে সহায়তা ছাড়াও ধর্মীয় কাজে প্রকাশ্যে ও গোপনে রয়েছে তাঁর প্রচুর অবদান। তাঁর সার্বিক সহযোগিতায় বালুটিলা বাজারে নির্মিত হচ্ছে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। গৃহহীন অনেক অসহায় পরিবার, যারা বাস করতো জরাজীর্ণ ঘরে। তারাও বিপ্লবের আর্থিক সহযোগিতায় নতুন ঘর পেয়ে মহাখুশি। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়া মানুষের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে খাদ্য সামগ্রী হস্তান্তর করেন মেহেদি হাসান বিপ্লব। জানা যায়, করোনাকালে জেএইচএম ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে প্রায় দুই হাজার দুস্থ মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট হস্তান্তর করেন মেহেদি হাসান বিপ্লব। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিম্নবিত্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। মোঃ মেহেদি হাসান বিপ্লব মানব কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে অনুধাবন করেন, মানবসেবার কোন নির্ধারিত সময় বা সীমানা নেই। যেখানে মানব অধিকার বিপর্যয়, সেখানেই মানব কল্যাণে কাজ করতে হবে। তাই তিনি নিজের উপজেলা না হলেও পৃষ্ঠপোষক সদস্য হয়েছেন করোনাকালীন প্রতিষ্ঠিত ৪৯টি মৃত ব্যক্তির ফ্রি দাফন কাফন সম্পন্নকারী সামাজিক স্বেচ্চাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’ সংগঠনের। মেহেদি হাসান বিপ্লব বলেন, ‘আমি জীবনে যা কিছু করেছি মন দিয়ে করার চেষ্টা করেছি। যার সফলতাও আমি দু-হাত ভরে পেয়েছি। ফলে যতটুকু পেরেছি মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেছি। টাকা তো মানুষ কবরে নিয়ে যেতে পারে না। যা আয় করেছি সেই আয়ের কিছু অংশ মানুষকে এখন দান করার চেষ্টা করছি। কিন্তু ভবিষ্যতে আমার ইচ্ছা আরও অনেক বড়। যাতে জীবনের অর্জিত সকল অর্থ মানুষের জন্য দান করে যেতে পারি।’ তিনি জানান, আগামীতে রাস্তার টোকাইদের পড়ালেখার জন্য তিনি একটি এতিমখানা চালু করবেন। যাতে তিনি আজীবন রাস্তার খেতে না পাওয়া ছেলেমেদের জীবনে শিক্ষার আলোর পাশাপাশি তাদের কর্মজীবনের ব্যবস্থা করতে পারেন। এছাড়াও এরকম আরও কয়েকটি চিন্তাধারা নিয়ে তিনি একটি ফাউন্ডেশন চালু করবেন। যাতে দেশের নিম্ন শ্রেণির মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Share via
Copy link
Powered by Social Snap