নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমপি : ২৮ অক্টোবর শুরা সভা হবেই হবে

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমপি : ২৮ অক্টোবর শুরা সভা হবেই হবে
হালদা-২৪ ডেস্ক :
ফটিকছড়ির নাজিরহাট আল-জামিয়া আরবিয়া নছিরুল ইসলাম বড় মাদ্রাসা’র পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন এ আসনের এমপি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। ২৮ অক্টোবর আহুত শূরা বৈঠক এবং মাদ্রাসার উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আল্লামা আহমদ শফি নিযুক্ত মুহতামিম মাওলানা ছলিম উল্লাহ আহুত সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন উপস্থিত ছাত্রদের একাংশ ‘শূরা চাই শূরা চাই’ বলে স্লোগান দিতে গিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা পরবর্তী ছাত্র আন্দোলন এবং তৎপরবর্তী সিদ্ধান্ত বিষয়ে আজ রবিবার (২৫/১০/২০২০) দুপুর ১২টায় নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসা শুরা সদস্য আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন মোঃ আবু তৈয়ব, নাজিরহাট পৌর মেয়র এসএম সিরাজুদ্দৌল্লাহ, ওসি বাবুল আকতার প্রমূখ।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে জামায়াতের এজেন্ট বলেছে আনাস মাদানী; সেই বাবুনগরী এবং হেফাজতের সঙ্গে আপনার সখ্যতার বিষয়টি পরিস্কার করবেন কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি জামাতের বিরুদ্ধে মামলা করেছি এবং ওই মামলায় জিতেছি। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছি ইনশাআল্লাহ। যদিও আমার দুর্ভাগ্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো স্বীকৃতি আমি পায়নি; কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী হয়ে থাকবে। আমি যখন যা কিছু করি পাওয়ার জন্য করি না, আল্লাহ রহমতের জন্যই করি। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী যখন বাবুনগর মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন; তখন থেকেইা ওনার সাথে আমার সখ্যতা। কেউ ওনার সাথে কিংবা কেউ কারো সাথে ছবি তুললে জামাত হয় না। জুনায়েদ বাবুনগরী সেদিন বাবুনগর মাদ্রাসায় বলেছেন; আমি যদি জামাত হই তবে নদভী কি? কাউকে জামাত বলে সুকৌশলে একটা চক্র দাগ লাগিয়ে এই জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ওনাদেরকে সরকারের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করে চলছে। জুনায়েদ বাবুনগরীই জামাতের বিরুদ্ধে একটি বই লিখেছেন; জামাতের বিরুদ্ধে মাহফিলে বক্তব্য রাখেন ওনি। আমরাও ঐক্যবদ্ধভাবে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক দ্বীন কায়েমের জন্য এগিয়ে যাব। কোন দুর্গাপুজায় মাদ্রাসা ছাত্ররা বাধা দেয় না- এটাই হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা। ইসলাম শান্তির ধর্ম; আমরা তাদেরকে আহবান জানাবো। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মাবলম্ভীরা ইসলাম ধর্মের কাছেই নিরাপদ, মদীনার সনদে আল্লাহর নবী সেটি বলেছেন। মাদ্রাসা-মন্দির এক জায়গায় থাকলেও যার যার ধর্ম তারা পালন করে যাচ্ছে।
আপনার আজকের অবস্থান কি নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা বিষয়ক নাকি জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে সরকারের অবস্থান- এ প্রশ্নে জবাবে বলেন, শুধু নাজিরহাট বড় মাদ্রাসা কেন; ফটিকছড়ির ১১৪টি মাদ্রাসাসহ সারা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা সমূহের পক্ষে সরকারসহ আমার অবস্থান। এ মাদ্রাসাসহ সারা বাংলাদেশের কওমী অঙ্গনের নিরাপত্তা এই জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বে আমরা অবস্থান নিব। কওমী অঙ্গনে আল্লামা শফির উত্তরসূরী হিসেবে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীই নেতৃত্ব দেবেন- এটাই সরকারের চাওয়া এবং অবস্থান।
আপনি তো প্রকাশ্যে আল্লামা শফী নিযুক্ত মুহতামিম মাওলানা সলিমুল্লাহ’র পক্ষ নিয়েছিলেন; আজ মত পরিবর্তনের কারণ কি? এ প্রশ্নের জবাবে এমপি নজিবুল বলেন, আমি মাওলানা সলিমুল্লাহ’র পক্ষ নেয়ইনি। সরকার বলেছে আল্লামা আহমদ শফীর পক্ষ নিতে; তাই নিয়েছি। সরকার এখন বলছেন জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষ নিতে; তাই আমি তার পক্ষ নিছি। আপনি বার বার বলেছেন; নাজিরহাটকে হাটহাজারী হতে দেবেন না- এটার রহস্য কি? এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা হচ্ছে কারো বিরুদ্ধে বলবো না। জনপ্রতিনিধিরা যদি সক্রিয় থাকেন- তবে সরকারের কাজ কমে যায়। গতকালকে যে আমি মাদ্রাসায় এসেছি; আমাকে অনেকে নিষেধ করেছেন। ওখানে বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাবে; আপনাকে ছুরি মারতে পারে। আমি বলেছি- মুসলমান একবার মরে- দুই বার মরে না। দ্বীনের জন্য কিংবা মাদ্রাসার কাজের জন্য আমি ছুরি খেয়ে যদি মরে যাই; তবে আমার থেকে কেউ বেশী খুশী হতে পারে না।
সামনে হেফাজতের আমির কে হতে পারে বলে আপনার ধারণা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে হেফাজতের আমীর কে হবে না হবে- সেটা হেফাজতের মুরুব্বী যারা আছেন; তারাই নির্ধারণ করবেন। এটা আমার বা সরকারের কোন বিষয় না। তবে আমি ভাই হিসেবে আমি চাইবো- হেফাজতে ইসলামের মুরুব্বিরা যেন ফটিকছড়ির কৃতি সন্তান হিসেবে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকেই হেফাজতের আমীর নির্বাচিত করেন। এতে আমার চাইতে বেশি খুশি কেউ হবে না।
তিনি আরো বলেন, আন্দোলনকারী মাদ্রাসার ছাত্রদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকার এবং আমি নিয়েছি। আগামী ২৮ তারিখ শুরার সকল সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বও আমার এবং সরকারের। যেখানে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে আর আমি দায়িত্ব নিয়েছি- সেখানে কেউ এই শুরাতে বাধা দান করবে! স্বপ্নেও কেউ তা চিন্তা করতে পারবে না। এ দিন প্রতিহতকারী কেউ ত্রি-সীমানায়ও আসতে পারবে না। আমি চাই- শুরা সভা প্রতিহতকারিরা সামনে আসুক; আগামী ২৮ অক্টোবর নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মজলিশে শুরা হবে হবে হবে ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য- ২৮ মে নাজিরহাট আল-জামিয়া আরবিয়া নছিরুল ইসলাম বড় মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা শাহ ইদ্রিস ইন্তিকাল করলে নায়েবে মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমানকে সাময়িক দায়িত্ব দেয় শূরা কমিটি। পরবর্তিতে মাদ্রাসার শূরা সদস্য হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার প্রয়াত পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী মাওলানা সলিম উল্লাহকে নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মুহতামিম ঘোষণা করলে ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মুফতি হাবিবুর রহমানসহ শূরার অন্যান্য সদস্যরা তা মেনে নিচ্ছে না। এরমধ্যে দু’পক্ষের বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে প্রশাসনের সহায়তায় ২৮ অক্টোবর শূরা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Share via
Copy link
Powered by Social Snap