নৃশংসভাবে হালদার ডলফিন হত্যা

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২০

নৃশংসভাবে হালদার ডলফিন হত্যা

ভরা মৌসুমে হালদা নদীতে আরেকটি ডলফিনকে নৃশংসভাবে হত্যা হয়েছে। আজ ৮ মে শুক্রবার সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের জিয়া বাজার এলাকার ছায়ারচর নামক স্থানে হালদা পাড়ে ডলফিনটিকে হত্যা করা হয়।

শুক্রবার সকালের দিকে সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আইডিএফ-এর কর্মী মিমু দাস এবং স্বেচ্ছাসেবক রওশনগীর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে গড়দুয়ারা এলাকায় নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মাটি চাপা দেয়া হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান ৮ মে শুক্রবার সকালে হত্যার করা ডলফিনটির দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ওজন ৫২ কেজি। গত ২১ মার্চ ২৩তম ডলফিনের মৃত্যুর পর ১৮ দিনের মধ্যে এটি ২৪তম ডলফিনের মৃত্যু। ডলফিনটিকে মাথা বরাবর আড়াআড়িভাবে এবং ঘাড় থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য বরাবর কাটা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের এই চিহ্ন বিগত সময়ের মৃত ডলফিনগুলোর চেয়ে একটি নতুন ইংগিত বহন করে। ধারণা করা হচ্ছে কোন জেলের অবৈধ জালে আটকা পরলে ডলফিনটিকে ডাঙ্গায় তোলা হয় এবং কেটে চর্বি নেয়ার চেষ্টা করা হয়।

উল্লেখ্য হালদাতে প্রায় ১৬৬ টি ডলফিনের প্রজাতি আছে। এগুলো বিশ্বের অতি বিপন্ন প্রাণী। ডলফিন যে নদীতে ডলফিন থাকে বোঝা যায় যে সে নদীটা জীবন্ত। তাই ডলফিন চলে গেছে মাছেরও ক্ষতি হবে বলে মনে করেন গবেষক ও সংশ্লষ্টরা। বিশ্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী বাংলাদেশ হারাবে যদি সত্যিই ডলফিন চলে যায় বা আর না থাকে।

চট্টগ্রাম রিপোটার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নদী গবেষক সাংবাদিক আলীউর রহমান বিপন্ন প্রাণী ডলফিন হত্যা প্রসঙ্গে বলেন প্রশাসনের চোখের সামনেই যেহেতু এসব চলছে, সেহেতু দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। এই গুরুতর অপরাধ বন্ধে হালদায় নিষিদ্ধ জাল ও নৌযান চলাচলের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর অভিযান নিয়মিত চালানো দরকার। প্রাণিবৈচিত্র্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ডলফিনের এই মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ এবং সামগ্রিক পরিবেশ নস্যাতে ভূমিকা রাখা ফৌজদারি অপরাধের শামিল বললে অত্যুক্তি হবে না।

কর্টেসিঃ দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রাম, শাওন ইমতিয়াজ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Share via
Copy link
Powered by Social Snap