“নোবেল সংগীতাঙ্গনের নতুন করোনাভাইরাস”

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

“নোবেল সংগীতাঙ্গনের নতুন করোনাভাইরাস”

গানের জগতে নতুন করে আলোচনায় আসতে না পারলেও দেশের সংগীতের কিংবদন্তিদের নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন ভারতের রিয়েলিটি শো থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়া বাংলাদেশের নোবেল। নিজের ফেসবুক পেজে নোবেল বলেছেন, ‘লিজেন্ডদের আমি শেখাব কীভাবে ২০২০ সালে মিউজিক করতে হয়!’ ভারতের রিয়েলিটি শো পরিচিতি পাওয়ার পর বিতর্কের জন্ম দেওয়া নোবেলের এ ধরনের কথা শুনে দেশের সংগীতাঙ্গনের অনেকেই অবাক ও বিস্মিত হয়েছেন। অনেকে এটাকে পাগলের প্রলাপও বলছেন।

হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই নোবেলের মুখ থেকে এমন কথা শুনে শুরুতে কেউ বিশ্বাস করতে চাননি। ভেবেছিলেন, হয়তো ফেসবুক পেজ হ্যাক করে কেউ লিখে দিয়েছেন। তাই লিজেন্ডদের নিয়ে এভাবে লিখেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, যিনি দেশের জাতীয় সংগীত বদল করার কথা বলতে পারেন, তাঁর পক্ষে দেশের কিংবদন্তি নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলাটা কোনো বিষয়ই নয়। পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফেসবুক লাইভে আসেন নোবেল। তখন সবাই নিশ্চিত হয়ে যান, জেনে-বুঝে নোবেল এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলেছেন। ফেসবুক লাইভে নোবেল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছেন, তিনি জেনে–বুঝে পোস্টটি দিয়েছেন। লাইভে তিনি বলেছেন, ‘অ্যা  ভাই, কী শুনলাম আমি। পেজ নাকি হ্যাক হইছে। কই পেজ তো হ্যাক হয়নি। আমি তো নোবেল। দেখেন রক্ত–মাংসের নোবেল। গাল টানলে গাল বাড়ে, নাক ধরা যায়। আমি নোবেল। সো নো প্রবলেম!’

বিষয়টি নিয়ে দেশের গুণী সংগীতশিল্পী ও সংগীতপরিচালক কুমার বিশ্বজিতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘এমন কথা হতাশা থেকে বলে। তাই বলতে পারি, এটা হতাশা এবং পাগলের প্রলাপ। যার নিজেরই কোনো সৃষ্টি নাই, অন্যের সৃষ্টি দিয়ে গানের জগতে হাঁটতে শুরু করেছে, তাদেরই ইগনোর করা ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এমন কাজ পাগলেই শুধু করতে পারে।’

সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক শওকত আলী ইমন বলেন, ‘এখনো যার কোনো নিজের গানই তৈরি হয়নি, যে দেশের শিল্পীদের গান গেয়ে ভারতে গিয়ে পরিচিতি পেয়েছে, সে এমন কথা বলার সাহস কোথায় পেল, এটা অবিশ্বাস্য। এই সময়ের সঙ্গে মিল রেখে আমি বলব, ও সংগীতাঙ্গনের নতুন করোনাভাইরাস। এই ধরনের ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে হয়। ওর আসলে মানসিক চিকিৎসা দরকার। গান করার আগে, ওর সুস্থতাটা বেশি জরুরি। কারণ পাগল ছাড়া এই ধরনের কথা কেউ বলতে পারে না। আমরা দেখেছি, প্রথম থেকেই সে ঔদ্ধ্যত্যপূর্ণ কথা বলছে।’

প্রসঙ্গত ভারতের জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো সা রে গা মা পা গ্র্যান্ড ফিনালের সময় নোবেল নিজের দেশের জাতীয় সংগীত বদল করার মতামত দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। সে সময় তিনি এ–ও বলেছিলেন, বাংলাদেশে তাঁর কাজ করার মতো কোনো সংগীত পরিচালক নেই। এমনকি তাঁর সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে গান গাওয়ার যোগ্যতা দেশের কোনো নারী শিল্পীরা রাখেন না।

এদিকে নোবেলের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সংগীতাঙ্গনের তরুণ প্রজন্মের সবাই। ফেসবুকে তাঁদের অনেকে নিজেদের ক্ষোভের কথাও তুলে ধরেছেন। শাস্ত্রীয় সংগীতে দিল্লির গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, বাংলাদেশি শিল্পী সমরজিৎ রায় বলেন, ‘যাঁদের গান গেয়ে আমরা সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হই, তাঁদের নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়। ব্যক্তিগতভাবে দিল্লিতে গান শিখতে গিয়ে এটুকু বুঝেছি, মানুষ যতই সংগীতের গভীরে যায়, তাঁর আচরণ ততই উন্নত হয়। বিনম্র হয়। সে জায়গায় একজন তরুণ কয়েক বছর গান করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলা লিজেন্ডদের নিয়ে, এটা শিল্পী সমাজের জন্য কলঙ্ক।’

ভারতের জি বাংলার সা রে গা মা পা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে নোবেল বাংলাদেশে আরও দুটি রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ এবং বাংলালিংক নেক্সট টিউবার প্রতিযোগিতা থেকে একটা পর্যায়ে বাদ পড়েন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিগগিরই নতুন গান প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, তাই নেতিবাচক প্রচারণার কৌশল নিয়ে আলোচনায় থাকতে চান নোবেল। বিষয়টি নোবেলের অন্য পোস্টগুলো পড়লেও বোঝা যায়। তবে বিষয়টি যে নোবেল–ভক্তদের জন্যও হিতে বিপরীত হবে, সেটা ভাবতেও পারেননি হয়তো তিনি। নিজের ফেসবুকের অনুসারী যাঁরা আছেন, তাঁরাও নোবেলের এমন কৌশল কিংবা লিজেন্ডদের নিয়ে কথা বলাটাকে স্বাভাবিকভাবে নেননি। তাঁদের বেশির ভাগেরই মন্তব্য নোবেলের আচার-আচরণ খুবই ঔদ্ধত্যপূর্ণ, তাঁর মানসিক চিকিৎসা দরকার।

Share via
Copy link
Powered by Social Snap