ফটিকছড়িতে সরকারী নির্দেশনা না মানলে পুনরায় সব শপিং মল, মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবেঃ

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০২০

ফটিকছড়িতে সরকারী নির্দেশনা না মানলে পুনরায় সব শপিং মল, মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবেঃ

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর হুশিয়ারী।

ফটিকছড়ি উপজেলায় (কোভিট-১৯) করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করনীয় নির্ধারনের লক্ষ্যে আজ ৭ মে ফটিকছড়ি উপজেলা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মিলনায়তনে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্টিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) এর সম্মানিত চেয়ারম্যান, ফটিকছড়ি থেকে চার বারের নির্বাচিত মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সাংসদ বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার সকল বাজারে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারী নির্দেশনা মেনে ব্যবসা না করলে এবং সাধারন জনগন স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চললে পুনরায় সব শপিং মল, মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। সরকার জনগনের কথা চিন্তা করে শর্ত সাপেক্ষে শপিং মল ও মার্কেট সীমিত আকারে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মানে এই নয় যে যার যেমন ইচ্ছা চলবে।

মাননীয় সাংসদ আরো বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলায় লকডাউন বহাল থাকবে এবং ফটিকছড়ি থেকে কেউ বাইরে যেতে পারবে না আর কেউ ভিতরে ঢুকতে পারবে না। তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, ফটিকছড়িতে সকল ব্যবসায়ীদের দোকানে ঈদ পন্য যা মজুদ আছে তা দিয়েই ব্যবসা করতে হবে। বাহির থেকে কোন জুতা, কাপড় ফটিকছড়িতে নতুন করে আনতে পারবে না।

শুধু মাত্র খাদ্য পন্যের নিত্য প্রয়োজনীয় কাঁচা বাজার ছাড়া আর কোন পন্য আনা যাবে না এবং জরুরী সেবার কাজে নিয়োজিত পরিবহন ছাড়া কোন পরিবহন ফটিকছড়িতে ঢুকতে পারবে না।

বিশেষ করে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম শহর ও দক্ষিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়াসহ ঝুকিপূর্ন এলাকার কোন পরিবহন ও ব্যবসায়ী ফটিকছড়িতে প্রবেশ করতে পারবে না।

ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে মাননীয় সাংসদ বলেন, দোকানে কর্মরত স্টাফদের মুখে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস লাগানো, দোকানের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রেখে কাষ্টমারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং দোকানে বেচা কেনার সময় কাষ্টমারদের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে যাওয়া সাধারন জনগনও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় কোন ব্যবসায়ী ও জনগন বেচাকেনা করতে পারবে না। ব্যবসায়ী ও জনগন কেউ আইন অমান্য করলে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী হাট-বাজারে সকল দোকানপাট ও শপিং মল গুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সীমিত আকারে খোলা রাখা যাবে।

মাননীয় সাংসদ তাহার বক্তব্যে ফটিকছড়ি উপজেলার সকল মসজিদের খতীব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিঠিকে সরকারী নির্দেশনা মেনে মুসল্লীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মসজিদে নামাজ আদায় করার অনুরুধ করেন এবং ভয়াবহ মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করার আহবান জানান।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান।

সভা শেষে মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর পক্ষ থেকে দেশের এই করোনা পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবন যাপন করা ইসলামীক ফাউন্ডেশনের অধীনে ফটিকছড়িতে মসজিদ ভিত্তিক কর্মরত দুইশত পঞ্চাশ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, শিক্ষক, কর্মকর্তার পরিবার, হিন্দুদের মন্দির ভিত্তিক দুইশত ত্রিশ পুরোহিত এর পরিবার, বৌদ্ধদের গীর্জা ভিত্তিক দুই শতাধিক পুরোহিত এর পরিবার এবং খ্রিষ্টান ধর্মের উপাসনালয় ভিত্তিক ধর্ম জাযক পঁচিশ পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে খাদ্য এখনো তো তোরে সহায়তা প্রদান করা হয়।

চা শ্রমিকদের মাঝে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার মানবিক সহায়তাসহ আনসার ভিডিপি, বাস-ট্রাক শ্রমিক সমিতিকেও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন।

মাননীয় সাংসদ তাহার পক্ষ থেকে এই করোনা মোকাবেলায় ফটিকছড়িতে সব রকমের সাহায্য সহযোগীতা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান। তিনি ফটিকছড়িতে অবস্থান করে সব সময় করোনা মোকাবেলায় সব কিছু মনিটরিং করছেন এবং ত্রান বিতরন সহ সব কার্যক্রম তদারকি করছেন।

সভায় সভাপতিত্বে করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মুহাম্মদ সায়েদুল আরেফিন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুসাইন মোঃ আবু তৈয়ব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোঃ জানে আলাম, ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট ছালামত উল্লাহ শাহীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন নাহার মুক্তা, ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মোঃ ইসমাইল হোসেন, নাজিরহাট পৌরসভার মেয়র এম, সিরাজ উদ দৌলা ও উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Share via
Copy link
Powered by Social Snap